ব্রেকিং নিউজ
দালালদের দৌরাত্ম্যে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ভূমি অফিসে ভোগান্তির অভিযোগ বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন, রাজশাহী জেলা আয়োজিত ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত দিল্লিতে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর মাগুরায় সাকিবের বাড়িতে হামলার অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তথ্যচিত্র ঘিরে বিতর্ক, হট্টগোলের পর দুঃখ প্রকাশ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের অবমাননা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ
×

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০/৮/২০২৬, ১০:১৮:০৭ AM

দালালদের দৌরাত্ম্যে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ভূমি অফিসে ভোগান্তির অভিযোগ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা এসিল্যান্ড অফিস ও ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হতদরিদ্র ও অসহায় জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে দালালদের মাধ্যমে ভূমিসেবা নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা এসিল্যান্ড অফিস ও ভূমি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হতদরিদ্র ও অসহায় জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে দালালদের মাধ্যমে ভূমিসেবা নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এতে কয়েকজন চিহ্নিত দালাল ও অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী উপজেলা এসিল্যান্ড অফিস ও ভূমি অফিসে ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকজন অসাধু কর্মকর্তা তাদের মনোনীত দালালদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে দ্রুত মিউটেশনসহ বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি সাংবাদিকদের জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি অফিসগুলোতে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসের আশপাশে কয়েকটি কম্পিউটার দোকানকে কেন্দ্র করে দালালি কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করানো হচ্ছে।

দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান ফটকের সামনে কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করেন আল-আমিন নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয়দের দাবি, তিনি ভূমি অফিসে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতার নামে দালালি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে রাঙ্গাবালী ভূমি অফিসে তহশিলদার ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে কাজী মো. জাহিদুল ইসলাম যোগদানের পর আল-আমিনকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ব্যবহার করা হতো। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরবর্তীতে আল-আমিনসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে একটি দালালচক্র গড়ে ওঠে এবং ভূমি অফিসের বিভিন্ন কাজে তাদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করা হতো।
অভিযোগ রয়েছে, ওই চক্রের সঙ্গে আল-আমিন, মানিক মোল্লা, আনোয়ার হোসেন ও কম্পিউটার দোকানদার মাইনুলসহ কয়েকজন যুক্ত ছিলেন। তাদের মাধ্যমে ভূমি বন্দোবস্ত, খাসজমি লিজ, মিউটেশনসহ বিভিন্ন কাজে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একপর্যায়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দালালদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন। বিষয়টি তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের নজরে এলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, দালালচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।



পরবর্তীতে আল-আমিন ভূমি অফিসের প্রধান ফটকের সামনে কম্পিউটারের দোকান দিয়ে আবারও ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, খাসজমি বন্দোবস্ত, খতিয়ান, নামজারি ও অন্যান্য ভূমিসেবার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সরকারি ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে।
একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি যেখানে তুলনামূলকভাবে কম, সেখানে দালালদের মাধ্যমে একই কাজ করতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা বা তারও বেশি নেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ

রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের (ছদ্মনাম রহমতুল্লাহ) অভিযোগ, নিজের পৈতৃক বসতভিটার নামজারি করতে গিয়ে তাকে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে ঘুরতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভূমিসেবা পেতে তাকে দালালের সহযোগিতা নিতে বাধ্য হতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ভূমিসেবা ডিজিটাল হওয়ার কথা থাকলেও প্রত্যন্ত এলাকার অনেক সাধারণ মানুষ এখনও সঠিকভাবে অনলাইন সেবা নিতে পারছেন না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে দালালের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিজিটাল ভূমিসেবা চালু হলেও মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাব, জটিল প্রক্রিয়া এবং দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।

দালালমুক্ত ভূমিসেবার দাবি
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ভূমি অফিসের আশপাশে দালালদের কার্যক্রম বন্ধ করা গেলে ভূমিসেবা নিতে আসা মানুষের হয়রানি অনেকাংশে কমবে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে সিসি ক্যামেরার কার্যকর ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি এবং অভিযোগের দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, ভূমি অফিসে সেবাপ্রত্যাশীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সেবার সময়সীমা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। এতে দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ কমবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।